
নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজ: নারায়ণগঞ্জের বন্দরের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক চেয়ে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার দায়ে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী সুলতানা বেগম | বুধবার দুপুরে বন্দর থানায় এই মামলা দায়ের হয়| এর আগে সুলতানা বেগম নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করতে গেলে তাকে বন্দর থানায় রুজু করতে বলেন আদালত৷ মাকসুদ হোসেন বন্দরের মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, একমাত্র আসামি মো. মাকসুদ হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে|
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে ১৯৯৮ সালের ০৭ জুলাই সুলতানা বেগমকে বিয়ে করেন মাকসুদ| বিয়ের সময় সুলতানার পরিবার মাকসুদের হাতে নগদ ৭ ভরি স্বর্ণালংকার তুলে দেয়| বিয়ের পরে সুলতানাকে নিয়ে একটি ভাড়া করা বাসায় উঠেন মাকসুদ|
এর দুই বছরের মাথায় তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়| একপর্যায়ে সুলতানা টের পান, মাকসুদ একাধিক নারীর সাথে পরকীয়াতে লিপ্ত| এসব নিয়ে মাকসুদকে প্রশ্ন করেন ও মাকসুদের পৈতৃক বাড়িতে তুলে নেওয়ার দাবি জানান সুলতানা| কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে তুলে নেওয়ার শর্ত হিসেবে মাকসুদ সুলতানাকে তার পৈতৃক উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা মাকসুদের হাতে তুলে দেওয়ার চাপ দিতে থাকেন|
সুলতানা আরো উল্লেখ করেন, একপর্যায়ে মাকসুদ স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে সুলতানার বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে চলে যান ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন| অনেক চেষ্টার পরে ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর মাকসুদকে তার কন্যার অসুস্থতার খবর পাঠিয়ে আসার অনুরোধ করলে তিনি শ্বশুরবাড়িতে এসে ফের সুলতানার উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি বিক্রির চাপ দেন| এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে সুলতানা ওই মাসের ১৪ অক্টোবর যৌতুক নিরোধ আইনে মাকসুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন|
কিন্তু এই মামলায় জামিনে কারামুক্ত হয়ে গত ২১ এপ্রিল মাকসুদ তার কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে রাত ১১টার দিকে সুলতানার পৈতৃক বাড়িতে আসেন ও মামলা তুলে নিতে হুমকিধামকি দেন| সেইসাথে উত্তরাধিকার সূত্রে সুলতানার প্রাপ্ত সম্পতি বিক্রি করে সেই টাকা ব্যবসার জন্য মাকসুদকে তুলে দিতে বলেন|
মাকসুদের কথামতো সুলতানা রাজি হলেই তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে বাড়িতে তুলে নেওয়া হবে বলেও প্রলোভন দেখান| কিন্তু এসব শর্তে সুলতানা রাজি না হওয়ায় মাকসুদ সুলতানাকে খুন করার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন| সুলতানার পিতা বাধা দিলে তাকেও লাথি দেন মাকসুদ| মাকসুদ-সুলতানার কন্যা শ্রাবন্তী মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও জখম করেন মাকসুদ| পরে সুলতানাকে বেদম মারধর করেন মাকসুদ| এই বিষয়ে আবারও মামলা করলে ও যৌতুক না দিলে সুলতানাকে মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মাকসুদ|
এ বিষয়ে জানতে মো. মাকসুদ হোসেনকে কল করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়| বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে| তদন্তকারী কর্মকর্তা ইতোমধ্যে আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছেন| পাওয়ামাত্রই আসামিকে গ্রেফতার করা হবে|