A Top Ads

নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজ

এপেন্ডিসাইট অপারেশনের দীর্ঘ ১৮ মাস পর শিশু বাচ্চা ইয়ামিন হোসেনের পেট থেকে বের হলো ‘মোপ’ (ব্যান্ডেজ কাপড়)। এ ঘটনায় ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের ডাক্তার মো. ইউসুফ আলী সরকার, মেডিহোপ হাসপাতালের সার্জন ডাঃ ফয়সাল আহম্মেদ ও মেডিহোপ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহম্মদ মশিউর রহমান এর কাছে সুষ্ঠ বিচার চেয়ে শিশুটির পিতা মো. শামীমুর রহমান অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ডাক্তার ও মেডিহোপ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর পিতা সোমবার (৮ মে) দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন।

মো. শামীমুর রহমান জানান, আমার ছেলে ইয়ামিন হোসেনকে চিকিৎসায় অবহেলা ও ডাক্তারদের গাফিলতির কারণে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের ডাক্তার মো. ইউসুফ আলী সরকার, খানপুর ৩০০ শয্যা মেডিহোপ হাসপাতালের সার্জন ডাঃ ফয়সাল আহম্মেদ ও মেডিহোপ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সহ হাজী আনিছুর রহমান এর বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক, আর.এম.ও, ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল এবং নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে দৌড়ঝাঁপে কোন সুচিকিৎসা না পেয়ে দীর্ঘ ১৮ মাস পর আমরা ঢাকাস্থ মাতুয়াইল শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার ডাক্তারগণ ইয়ামিন হোসেনের পায়ুপথে ‘মোপ’ (ব্যান্ডেজ কাপড়) দেখে তারাও হতবাক হয়ে পরেন। সমস্ত ডকুমেন্ট আমাদের কাছে রয়েছে এবং অনুলিপির সাথে সংযুক্ত করে সিভিল সার্জন এর কাছে জমা দিয়েছি। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।

এ বিষয়ে মো. শামীমুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ্য করেন, ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আমার ছেলে মোঃ ইয়ামিন হোসেন এর পেটের পীড়া জনিত সমস্যার কারণে তাকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে তখনকার দায়িত্বরত ডাক্তার মো. ইউসুফ আলী সরকার আমাদেরকে জানায় যে, জরুরী আমার ছেলের এপেন্ডিসাইট অপারেশন করতে হবে এবং আমাদেরকে বলে আমরা যেনো নারায়ণগঞ্জ চাষাড়াস্থ মেডিহোপ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করাই। অতপর ২০ সেপ্টেম্বর আমার ছেলেকে চাষাড়ার মেডিহোপ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উল্লেখিত ভিক্টোরিয়ার ডাক্তার মো. ইউসুফ আলী সরকার এবং নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সার্জন ডাঃ ফয়সাল আহম্মেদ সম্মিলিতভাবে আমার ছেলের এপেন্ডিসাইট অপারেশন করেন।

পরবর্তীতে দেড় মাস পর আমার ছেলের পেট ফুলে গেলে আমি পূনরায় আমার ছেলেকে ভিক্টোরিয়ার ডাক্তার মো. ইউসুফ আলী সরকারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি পুনরায় ডাঃ ফয়সাল আহম্মেদকে সাথে নিয়া টিভি বলে আবারো আমার ছেলের পেটে অপারেশন করেছেন। ২য় বার অপারেশনের পরও দিনদিন আমার ছেলে অসুস্থ হতে থাকে এবং তার খাবার-দাবার বন্ধ হয়ে যায়। ১৮ মাস যাবৎ আমার ছেলে সুস্থ না হয়ে বরং দিনদিন অসুস্থতার মাত্রা বাড়তে থাকে এবং আমার ছেলের অবস্থা মুমূর্ষু হয়ে পড়ে। অতপর আমরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডাক্তারের কাছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও কোন ধরনের রোগ নির্ণয় করা যায় নি।

পরবর্তীতে আমি চলতি বছরের গত ২১ এপ্রিল আমার ছেলেকে মাতুয়াইল শিশু হাসপাতালে ভর্তি করি। ভর্তি করানোর দুই দিন পর আমার ছেলের পায়ুপথে একটি ব্যান্ডিজের দুই ইঞ্চি গজ কাপড় দেখা যায়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাতুয়াইল হাসপাতালের ডাক্তারদের পরামর্শে প্রো-একটিভ হাসপাতালে নিয়ে বিশেষ পদ্ধতীতে আমার ছেলের পেটের ভিতর হতে ব্যান্ডিজের গজ কাপড় বের করা হয়।

এমতাবস্থায় উল্লেখিত মো. ইউসুফ আলী সরকার ও ডাঃ ফয়সাল আহম্মেদের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে আমার ছেলে অনুমান ১৮ মাস মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করেছে।

উল্লেখ্য, আমি বিষয়টি মেডিহোপ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আনিসুর রহমান আনিসকে জানালে তিনি তাদের গাফিলতী ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমার ছেলেকে পুণরায় তাদের হসপিটালে ভর্তি করানোর জন্য বললেও আমি আমার ছেলের জীবনের কথা চিন্তা করে সেখানে আনিনি। এই ঘটনার যাবতীয় কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় সকল প্রকার তথ্য সনদ আমার নিকট রয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহম্মদ মশিউর রহমান জানান, আমরা তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আগের সংবাদ দেখুনমোস্তফা কামালের কথায় এসএম মিঠু’র ‘বেইমান’
পরের সংবাদ দেখুনসওজ’র জায়গায় অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা