A Top Ads

নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজঃ নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে এক আতংকের নাম হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে বালু হাবিব। তার ইশারা ছাড়া বালু ভরাট,বালু ব্যবসা,নদীর তীরে মালামাল লোড,আনলোড,উপজেলা ও পৌরসভায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, হিন্দুদের জমি জোড় পূর্বক দখল, জমি বেচাকেনাসহ সকল কাজই নিয়ন্ত্রণ হয় তার ইশারায়। পুরো রুপগঞ্জের একক আধিপত্য বিস্তার করে অল্প সময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা। একাধিক বাড়ি,শত বিঘা জমি, বিলাশ বহুল একাধিক গাড়িসহ অঢেল টাকা মালিক বনে গেছেন এক সময়ের ছন্নছিন্ন ছাড়া হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে বালু হাবিব। তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুদকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসি।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, এক সময়ে তারাবো পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবির ওরফে বালু হাবিব ডাকসুর সাবেক ভিপি আক্তারুজ্জামানের হাত ধরে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। পরে নারায়ণগঞ্জ-১ (রুপগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেনারেল শফিউল্লাহ’র রাজনীতি সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এর পূর্বে ১/১১ এর সময় মাদক ব্যবসার অভিযোগে তাকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে ক্যাম্পে ব্যাপক মারধর করেন।

হাবিব ভুইয়া ওরফে বালু হাবিবের উত্থানঃ উপজেলার উত্তর রুপসী (নগরপাড়া) গ্রামের মৃত আ: রাজ্জাক মিয়ার ছেলে হাবিব ভুইয়া ওরফে বালু হাবিব। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য শফিউল্লাহর নাম ভাঙ্গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, বালু ভরাট, জমি-জমা দখল, হিন্দু সম্প্রত্তিদখলসহ সকল কিছু একেএকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন তিনি।

যেভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকাঃ হাবিবুর রহমান ওরফে বালু হাবিবঃ মেসার্স হাবিব এন্টার প্রাইজ ও রুপসী ড্রেজিং প্রকল্প নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি রুপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার এলাকায় কৃষকদের ফসলি জমি জোড় পূর্বক বালু দিয়ে ভরাট, সাধারণ মানুষের জমি জোড় পূর্বক দখল, নদী খননের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি, নদীর তীরবর্তী কারখানায় মালামাল লোড-আনলোড, তারাবো পৌরসভা ও উপজেলায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র পনের বছরে তিনি শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

হাবিবুর রহমান ওরফে বালু হাবিবের যত সম্পদঃ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। হলফ নামায় তিনি উল্লেখ করেন কৃষি জমির পরিমান ৯০৭.৯৬ শতাংশ ও অর্জন কালীন সময়ে আর্থিক মূল্য বাবদ চৌদ্দকোটি ঊনত্রিশ লাখ ঊনানব্বই হাজার সাত,শ পাঁচনব্বই টাকা।

অকৃষি জমি ৭১০.৮৬ শতাংশ ও অর্জনকালীন সময়ের আর্থিক মূল্য বাবদ চার কোটি উনস্ততর লাখ ছিচল্লিশ হাজার সাত’শ তিন টাকা। বসুন্ধরা আবাসিক ভাটারা এলাকায় একটি ভবন থেকে আয় বেয়াল্লিশ লক্ষ টাকা।

এছাড়াও অন্যান্য খাতে ও হাবিব পেপার মেইল থেকে এক কোটি টাকা আয় দেখালেও প্রকৃত পক্ষে হাবিবুর রহমানে হাবিব ওরফে বালু বালু হাবিরের ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় এভার গ্রিন হাসপাতালের পিছনে ছয় কাঠা জমির উপর ছয় তলা ভবন যার আনুমানিক মূল্য পনের কোটি টাকা। রুপসি এলাকায় দশ কাঠা জমির উপর দুটি পাঁচ তলা ভবন যার আনুমানিক মূল্য দশ কোটি টাকা। পূর্বাচল এলাকায় কয়েককোটি টাকা মূল্যের একাধিক প্লট, তারাবো পৌরসভা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা মূল্যের শতাধিক বিঘা জমি রয়েছে তার।

এছাড়া ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় সেলিম প্রধান ওরফে কেসিনো স¤্রাট সেলিম মিয়ার জমি জোড় পূর্বক দখল করে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের পাইকারি কাঁচা বাজারের আড়ৎ। এ এলাকায় গণি মিয়া ও ভুইয়া ব্রিক ফিলের মালিকের আড়াৎ জোড় পূর্বক বন্ধ করে দিয়ে তিনি এ আড়ৎ পরিচালনা করছেন। এভাবে শত কোটি টাকার উপরে সম্পাদক হাবিবুর রহমান ওরফে বালু হাবিবের রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীদের।

হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে বালু হাবিবের সন্ত্রাসী বাহিনীঃ রুপগঞ্জের আলোচিত জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রধান আসামী হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে বালু হাবিবের ছোট ভাই আজাবুর ভুইয়া ও বাবু ওরফে বিয়াই বাবুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এসকল বালু ব্যবসা ও টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন তিনি।

বালু হাবিব বালু ব্যবসায় একক আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ করতে তার ভাই সন্ত্রাসী আজাবুরকে দিয়ে জাহাঙ্গিরকে হত্যা করিয়েছেন বলে এলাকায় চাউর রয়েছে। তবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ও বাদি পক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পান বালু হাবিবের ভাই আজাবুর রহমান।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্যঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোলাকান্দাইল এলাকার এক বাসিন্দা জানান, হাবিবুর রহমান ওরফে বালু হাবিবের এক সময় কিছুই ছিলো না,অথচ আজ সে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। দূর্নীতি দমন কমিশন তার সম্পদের হিসেব দেখলেই তার সম্পদের আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

আবুল কাসেম নামে তারাবো এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বালু হাবিবুর হাবিব ওরফে বালু হাবিব তৎকালিন আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য শফিউল্লাহ সময় ফেন্সিডিলের ব্যবসা করতেন, তারপর ধীরে ধীরে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মানুষের জমা,জমি অন্যায়,অবৈধভাবে দখল করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

আওয়ামলীগ নেতাদের বক্তব্যঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজকে জানান, হাবিবুর রহমান ওরফে বালু হাবিব আওয়ামীলীগের সদস্য পদে থেকেও যেভাবে সে বালু ও জমি ব্যবসা টেন্ডারবাজিসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে এটা অত্যান্ত দু:খজনক। অনেক বড়বড় আওয়ামীলীগের নেতারাও তার কাছে অসহায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান হাবিব নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজকে জানান, আমি অবৈধভাবে কোন সম্পদ অর্জন করিনি। ব্যবসা করেই সম্পদ অর্জন করেছি। আমার নির্বাচনী হলফ নামায় যে সম্পদের বিবরন দেওয়া হয়েছে এর বাইরে আমার কোন সম্পদ নেই।

নারায়ণগঞ্জ প্রকাশে অনিচ্ছুক দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এক কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজকে জানান, হাবিবুর রহমান ওরফে বালু হাবিবের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজকে জানান, বর্তমান সরকার অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করছেন। বালু হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজকে জানান, দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। দূর্নীতিবাজদের কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

 

 

বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে..

আগের সংবাদ দেখুনহত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার
পরের সংবাদ দেখুনরূপগঞ্জে মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে মাঠে উপজেলা প্রশাসন