A Top Ads

নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজ: সুশৃংখলভাবে চলছে পাসপোর্ট অফিস। এই অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারিবৃন্দ সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিরামহীনভাবে যে যার দফতর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সকল প্রকার সেবা প্রদানের জন্য আমরা বদ্ধ পরিকর।

এই কার্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য আমরা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক গাজী মাহমুদুল হাসান নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজকে এসব কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করে থাকি পাসপোর্ট অফিসে মানুষের সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করতে। পাসপোর্ট সংক্রান্ত সকল সমস্যা সমাধানে সাধারণ মানুষকে সঠিক সেবা দিতে আমরা নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা জনগণের সেবা করবো ইনশাল্লাহ এবং জনগণের সেবার জন্যই আমরা রয়েছি।

উপ-পরিচালক গাজী মাহমুদুল হাসান জানান, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চারপাশে দালাল সিন্ডকেট থাকতে পারে। সবসময়ই সাধারণ মানুষকে অবগত করছি দালাল থেকে দূরে থাকুন, আমরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সার্বক্ষনিক আপনাদের সেবার দেওয়ার জন্য কাজ করছি। কোন ব্যক্তি যেন দালালদের খপ্পরে না পড়ে সেদিকে সবসময়ই পাসপোর্ট করতে আসা মানুষকে সচেতন থাকতে বলা হচ্ছে।

ই পাসপোর্ট এর গুরুত্ব নিয়ে উপ-পরিচালক বলেন, চলমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মতোই হবে ই-পাসপোর্টের বই। তবে এমআরপির প্রথম দুই পাতায় পাসপোর্টধারীর তথ্য থাকলেও ই-পাসপোর্টের দ্বিতীয় পাতাটি থাকবে একটি পালিমারের তৈরি কার্ডের মতো (ডেবিট/ক্রেডিট/এটিএম কার্ড-সদৃশ)। কার্ডে পাসপোর্ট বাহকের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখসহ নানা মৌলিক তথ্য থাকবে। এছাড়া সেই কার্ডের ভেতরে একটি মাইক্রো চিপ থাকবে। যেখানে পাসপোর্ট বাহকের সব গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য ও ডাটাবেজ সংরক্ষিত (কিন্তু অদৃশ্যমান) থাকবে। ডাটাবেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ।

অত্যাধুনিক ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ভ্রমণকারীরা খুবই দ্রুত, সহজে এবং ই-গেটের মাধ্যমে নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে দেশের বাইরে যেতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমে তাদের ইমিগ্রেশন দ্রুত হবে। ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্টের মাধ্যমে একজন বিদেশগামী কারও সাহায্য ছাড়া নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এক মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন হবে। পৃথিবীতে এর চেয়ে নিরাপদ ও অত্যাধুনিক পাসপোর্ট এখন পর্যন্ত উদ্ভাবন হয়নি। বিশ্বের ১১৮টি দেশে এ পাসপোটের ব্যবহার রয়েছে।

ই-পাসপোর্ট মূলত ৪৮ ও ৬৪ পাতার। এ পাসপোর্টের ধরন তিন রকম। ‘অতি জরুরি’, ‘জরুরি’ ও ‘সাধারণ’। পাঁচ বছর ও ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে ফি জমা দিতে হবে। সেই সাথে রয়েছে সময়ের ভিন্নতা।

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরি হলে তিনদিনে, জরুরি সাতদিনে এবং সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে ১৫ দিনে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতীব জরুরি দুদিনে, জরুরি তিনদিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট সাতদিনের মধ্যে দেয়া হবে। তবে সকল ফি’র সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট জমা দিতে হবে।

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

আগের সংবাদ দেখুনসোনারগাঁয়ে ফরেষ্ট চেক পোষ্টে পাঁচ লাখ টাকার কাঠ জব্দ
পরের সংবাদ দেখুনগণপিটুনিতে দিয়ে চার ডাকাত নিহত