
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একই দলের তিন বিদ্রোহী প্রার্থী মেয়র পদে লড়ছেন। এতে সাধারণ ভোটার ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দলীয় হাইকমান্ড এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে নৌকা প্রার্থীর ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয়রা জানান, আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীগের নৌকা প্রতীক পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র সুন্দর আলী। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন আড়াইহাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা, আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি মেহের আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুন উর রশিদ।অথচ এই তিন প্রার্থী আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে উপজেলা আওয়ামীলীগের স্বাক্ষরিতপত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির কাছে তাদের তিন জনের নাম উল্লেখ করে আওয়ামীলীগের মনোনয়নের তালিকা প্রেরণ করেন।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় পদে থেকেও বিদ্রোহী ওই তিন প্রার্থী নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন।
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকার মনোনয়ন পেতে প্রথমে নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র সুন্দর আলী, দ্বিতীয় নাম্বারে সাবেক মেয়র ও আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা, আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান, তৃতীয় নাম্বারে আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি মেহের আলী, চতুর্থ নাম্বারে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মামুন উর রশিদের নাম উল্লেখ করে তালিকা পাঠানো হয়েছিলো। এ বিষয়টি কালের কন্ঠকে নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও আড়াইহাজার পৌরসভার মেযর প্রার্থী মেহের আলী জানান, আমরা আমাদের পৌরসভা থেকে একাধিক ব্যক্তি নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজনকে নৌকার মনোনয়ন দিলেও বাকী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেন নি।
তবে আমাদের পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী না থাকায় আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। ভোটাররা যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন সেই হবেন আগামী দিনের মেয়র।
আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মামুন উর রশিদ জানান, আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনে বেশিরভাগ তরুণ ভোটার রয়েছে। যারা নতুন মুখ ও তরুন প্রার্থীকেই বেছে নিবে।সেই হিসেবে আমি একজন নিজেকে যোগ্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনে করি। তিনি বলেন, আমি উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগকে সংগঠিত করে দলের জন্য কাজ করেছি। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কিভাবে নির্বাচন করছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলীয় হাই কমান্ড থেকে কোন নির্দেশনা পাই নি বলেই নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, আমি ১৯৯৬ সালে আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগর সহ-সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে আমি আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা হিসেবে আছি। আমি শুধু একাই আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি না।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য দল থেকে আমাদের কোন রকম নির্দেশনা দেয়নি। যদি দলীয় হাইকমান্ড নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় তাহলে নির্বাচন থেকে সরে দাড়াবেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই মেয়র জানান, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দল থেকে কোনভাবেই আশা করি না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী জানান, আমি দীর্ঘ ত্রিশ বছর যাবৎ শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। রাজনীতি করতে গিয়ে একাধিকবার জেল জুলুম ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। বছরের পর বছর বাড়িঘর স্ত্রী, সন্তান ছেড়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন।
আমি রাজনীতি করে বাড়ি,গাড়ির মালিক হতে পারিনি। তবে সাধারণ মানুষের ভালবাসা পেয়েছি। আমাকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পৌরবাসীর কাছে আহ্বান জানান তিনি।
আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামীলীগের এক সদস্য জানান, আমাদের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত চিঠিতে নৌকার প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এরপর কিভাবে আওয়ামীলীগের দলীয় লোকেরা নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করার সাহস দেখায় তা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিনা।
আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম জানান, আওয়ামীলীগের পদপদবি থাকার পরেও ওই সকল ব্যক্তিরা দলীয় প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন। এটা স্থানীয় মেয়রের সাথে নয়, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে প্রতারণার শামিল।
ওই সকল বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইতিমধ্যেই মৌখিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারা নির্বাচন থেকে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরে না দাড়ালে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের দল থেকে বহিস্কার সহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত লিখিতভাবে কেউ জানায় নি। তবে খোঁজখবর নিয়ে ওই সকল বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে শোকজ করা হবে। পরেও নির্বাচন থেকে তারা সরে না দাড়ালে তাদের রিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিস্কার করা হবে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নিলে দল থেকে বহিস্কার করার ঘোষনা দিলেও বাস্তবে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না উপজেলা আওয়ামীলীগ। আগামী ১২জন আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ইলক্ট্রানিক্স ভোটিং মেশিন (ইভিএম)র মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা।