
বিশেষ প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জ ই্উনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসাসেবা। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা। চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যেও রয়েছে আতঙ্ক। সব সময়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করতে হয় তাঁদের। হাসপাতাল ভবনটির প্রতিটা কক্ষেই পলেস্তারা, ইট-বালু, সুরকি খসে খসে পড়ছে। যেন রোগীদের চেয়ে হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ, যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
সরেজমিনে শনিবার সকালে গিয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা, অফিস সহকারী ও অন্যান্য কার্যালয়ের ছাদের একাধিক স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উঠে যায় হাসপাতালটিতে। চারদিকে শে^ত শে^ত পরিবেশ। চারদিকে শাপ বিচ্ছুর উপদ্রপ। এডিস মোশার উপদ্রপ রয়েছে। এছাড়া ওই হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিজেই কয়েল জ¦ালিয়ে অফিস করছেন।
ফাতেমা আক্তার নামে আব্দুল আলী পুল থেকে আসা এক রোগী জানান, এ হাসপাতাল অত্যন্ত পুরোনো সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রচুর রোগী এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। হাসপাতালের চারদিকে অপরিস্কার, মশা মাছি ভনভন করছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাসপাতালটি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এভাবে দিনের পর দিন প্রতিকুলতার মধ্যে আমরা চিকিৎসা নিতে এখানে আসি।
ফারজানা আক্তার নামে দক্ষিনপাড়া থেকে আসা এক রোগী জানান, এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য এই হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে। এখান সেবার মানও ভালো তবে। তবে পরিবেশটা একদন ঘুটঘুটে। মহে হয় কোন এক ঝোপড়ি ঘরে আমরা চিকিৎসা নিচ্ছি। হাসপাতালটি মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।
শাহনাজ আক্তার নামে মতিন ব্রীজ এলাকা থেকে আসা এক রোগী জানান, হাসপাতালের চারিদিকে যে পরিমান ময়লা আবর্জনার স্তুপ করে রাখা হয়েছে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশাসহ বিভিন্ন জীবানু থাকতে পারে। এতে আমরা চিকিৎসা নিতে এসে ফের অন্যকোন রোগে আক্রান্ত হই কিনা এ নিয়ে সবসময় আতংকে থাকি।
কোহিনুর আক্তার নামে এক রোগী জানান, আমার গত কয়েকমাস পূর্বে এ হাসপাতালে একটি শিশু সন্তানের জন্ম হয়েছে। চিকিৎসার মান ভালো হলেও হাসপাতালের পরিবেশ অত্যান্ত নাজুক। সরকার এ হাসপাতালটিকে সংস্কার করে সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
আমেনা আক্তার নামে বাতান পাড়া এলাকা থেকে আসা এক রোগী জানান,হাসপাতাল সংলগ্ন কোয়াটারটি থাকলেও সেখানে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর পরেও জীবনের ঝুকি নিয়ে এক স্বাস্থ্য কর্মী তার পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আম্বিয়া আক্তার জানান, আমাদের এই হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের চেকআপ, পরিবার পরিকল্পনা ব্যবস্থা, ডেলিভারি, প্রসব সেবা ও মা ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকি। এখানে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আশপাশের এলাকার শতশত রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে ছুটে আসেন। কিন্তু আমরা যেভাবে জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করছি এতে যেকোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা কাজী মাহবুবা আমিন জানান, ১৯৯৭ সাল থেকেই আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে। ভবনটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন। ইট খুলে পরছে, সামান্য বৃষ্টি হলেই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালের কক্ষ। এছাড়া বর্তমানে সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ও ডেঙ্গু আতংকে দিনাতিপাত করছি। দিনের বেলায় ডেঙ্গুর মশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কয়েল জ¦ালিয়ে অফিস করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চ্াইলে পরিবার পরিকল্পনার নারায়ণগঞ্জের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার শর্মা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে নতুন ভবনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে। খুব শিগ্রই তা বাস্তবায়ন করা হবে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জীবন ও ডেঙ্গুর ঝুকি নিয়ে কাজ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদত্তোর দিতে পারেনি।