A Top Ads

নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই প্রায় নয় বছর যাবৎ চলছে চৌদ্দটি কারখানা। পরিবেশ দূষণ রক্ষার্থে আবাসিক এলাকা থেকে কারখানাগুলো সরিয়ে নিতে পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার নোটিশ দিলেও তা কোনভাবেই মানছেন না চুনাকারখানার অসাধু মালিকরা। দ্রুত কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কোনভাবেই আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না বলে মনে এলাকাবাসীরা। অনতিবিলম্বে এসকল কারখানাগুলো দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এক নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামের সিআইখোলা এলাকায় জাজিরা লাইমস, হীরাঝিল আবাসিক এলাকায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুকের মদিনা লাইমস, চাঁন মিয়ার রনি লাইমস, জালাল মিয়ার সুরমা লাইমস,ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে বাবুল মিয়ার ফয়সাল লাইমস, মিজমিজি সিআই খোলা এলাকায় খোরশেদ মিয়ার ঢাকা লাইমস ও যমুনা লাইমস, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় প্রয়াত আবু তালেবের ভাই ভাই লাইমস, প্রয়াত সুন্দর আলীর শরীফ লাইমস, আটি এলাকায় আরাফাত লাইমস এর মালিক হযরত আলী, আশরাফ আলী লাইমস এর মালিক জালাল মিয়া, মেঘনা লাইমস এর মালিক আব্দুল হাই, ওয়াপদাকালোনী এলাকায় খাজা লাইমস এর মালিক সোহেল মিয়া, হারুন লাইমস এর মালিক সাদেক মিয়া, রহমান লাইমস এর মালিক শহিদ হোসেন বিটু, এছাড়াও চুনাফাঁকি করে পবিবেশ বিপন্ন করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, আটি ছাপাখানা এলাকার শুভ লাইমস এর মালিক আবু সুফিয়ান, একই এলাকায় শরিফ উদ্দিন ও রমজান মিয়া চুনার ধোঁয়া উড়িয়ে ব্যবসা করছেন।

এলাকাবাসীরা জানান, পরিবেশ নীতিমালা ও তিতাস গ্যাস চুরি করে সিদ্ধিরগঞ্জের ঘনবসতি বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় চলছে এসকল চুনা কারখানা। পাথর পুড়িয়ে চুনা তৈরি করতে এসব কারখানায় সারাক্ষণ দাউ দাউ করে জ্বলে আগুন। ফলে কালো ধোয়ায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। ইতমধ্যে অধিকাংশ চুনা কারখানার মালিককে চোরাই গ্যাস ব্যবহারের জন্য মোটা অংকের জরিমানাসহ তাদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তিতাসগ্যাস কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম ও পরিবেশ দূষণ রক্ষার্থে আবাসিক এলাকা থেকে এসব কারখানা সরিয়ে নিতে গত পাঁচ বছর আগে নোটিশ করেন নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর। নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে কয়েক দফা নোটিশ করলেও অদৃশ্য কারণে অদ্যবধি পর্যন্ত এসব কারখানা সরানো হচ্ছেনা।

প্রায় নয় বছর ধরে কারখানার পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করছেন না। অপর দিকে ট্টেড লাইসেন্স নবায়ণ করছেন না নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ফলে কারখানাগুলো বৈধতা হারালেও সংশি¬ষ্ট দপ্তর ও বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই কারখানাগুলো চালাচ্ছে অসাধু চুনা কারখানার মালিকরা।

সিআইখোলার বাসিন্দা আফসার উদ্দিন বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে চুনা কারখানাগুলো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় কাগজপত্র নবায়ন ছাড়া চুনাকারখানাগুলো চালিয়ে আসছেন। আমরা অবিলম্বে এসকল অবৈধ চুনা কারখানা অন্যত্র স্থানান্তরের জোর দাবি জানাই।

ইমাম হাসান নামে হীরাঝিল এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বেশীর ভাগ চুনা কারখানার মালিকরা অবৈধভাবে গ্যাস চুরি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ মালিক বনে গেছেন। প্রত্যেকের রয়েছে একাধিক বাড়ি, গাড়ি ও প্রচুর টাকাকড়ি।

জয়নব বিবি নামে এক বাসিন্দা জানান, চুনাকারখানার সাথে বাসাবাড়ি হওয়ায় আমরা খুবই সমস্যায় আছি। তীব্র গরম আর কারখানার কালো ধোয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে দূর্ভোগ। শিশু ও বয়স্করা শ^াসকষ্টসহ নানা রোগশোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

কারখানার বৈধতা না থাকা সত্বেও কিভাবে চলছে আবাসিক এলাকায় চুনা কারখানাগুলো এবিষয়ে কথা বলতে রাজি নয় কারখানা মালিকরা। তবে চুনা কারখানার একাধিক মালিকরা কারখানা স্থানান্তরে পরিবেশ অধিদপ্তরের চিঠি ও ছাড়পত্র নবায়ন না করার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা লাইমস এর মালিক আবদুল হাই জানান, আমরা যখন চুনা কারখানা করেছিলাম তখন ওই এলাকায় ঘনবসতি ছিল না। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কিভাবে এসকল অবৈধ চুনা কারখানা চালাচ্ছেন জানতে চাইলে তার কোন সদত্তোর দিতে পারেন নি তিনি।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, ২০১৬ সাল থেকে এসকল চুনা কারখানার মালিকদের পরিবেশের ছাড়পত্র নবায়নের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। কারখানাগুলো অন্যত্র সরাতে একাধিকবার মালিকদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কারখানা ছাড়পত্র নিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করার কাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল জানান, আবাসিক এলাকায় কোন অবস্থাতেই চুনা কারখানা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। এসকল মালিককে তাদের চুনাভাট্টি অন্যত্র সরানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

আগের সংবাদ দেখুনমহাসড়ক দিয়ে স্বস্তিতে ঘরে ফিরছে মানুষ
পরের সংবাদ দেখুনযোগ্য প্রার্থী শাহ নিজাম