
কিশোর অপরাধ কী?
কিশোর অপরাধ বলতে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা তরুণদের দ্বারা সংঘটিত অবৈধ বা সমাজবিরোধী আচরণকে বোঝায়। “Delinquent” শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৪৮৪ সালে, যেটি কোনো ছোট অপরাধে দোষী ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কিশোর অপরাধ হলো যখন তরুণরা এমন কোনো কাজে জড়িয়ে পড়ে যা সমাজে গ্রহণযোগ্য নিয়ম ও আচরণের বিরুদ্ধে যায়।
আইন অনুযায়ী শিশু কাকে বলে?
বাংলাদেশের আইনে, ১৮ বছরের নিচে যেকোনো ব্যক্তিকে শিশু বলা হয়। এই সংজ্ঞাটি দেওয়া হয়েছে শিশু আইন ২০১৩–তে, যা জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (UNCRC) বাস্তবায়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল।
কিশোর গ্যাং (Kishore Gang)
বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি বলতে সংগঠিত দলবদ্ধ কিশোরদের বোঝায়, যারা শহরাঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এসব গ্যাং বিভিন্ন সামাজিক প্রভাবের কারণে গঠিত হয় এবং তারা প্রায়ই চুরি, মাদক ব্যবসা, ও সহিংসতার মতো কাজে জড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ
বর্তমানে বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ একটি বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার আগে এবং পরে কিশোর অপরাধ ছিল, তবে সময়ের সাথে সাথে এর ব্যাপ্তি বেড়েছে।
স্বাধীনতার আগে কিশোর অপরাধ সাধারণত ছোটখাটো চুরি, মিথ্যা বলা, স্কুল পালানো, ধূমপান করা এবং মেয়েদের উত্যক্ত করার মতো কাজে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকে এসে কিশোর অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হয়। সে সময় থেকে কিশোররা বিভিন্ন গুরুতর ও সহিংস অপরাধ যেমন ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অ্যাসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, হত্যা, ধর্ষণ এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়তে থাকে।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ ক্রমান্বয়ে বেড়েছে, যদিও কিছু সময়ে হ্রাস পেয়েছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে অপরাধের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশে গ্যাং সংস্কৃতি
বাংলাদেশে গ্যাং সংস্কৃতি সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত একটি বিষয়। মূলত ২০০১ সালের দিকে “কাঁকড়া গ্রুপ” (Crab Group) এর উত্থানের সাথে সাথে গ্যাং সংস্কৃতি দৃশ্যমান হয়।
প্রথমদিকে গ্যাং সংস্কৃতি ঢাকাসহ বড় শহর যেমন চট্টগ্রাম ও অন্যান্য শহরে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রথমে গ্যাং সদস্যরা মূলত আড্ডা দেওয়া বা মেয়েদের উত্যক্ত করার মতো কাজে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তাদের কার্যক্রম আরও বিপজ্জনক ও সহিংস হয়ে উঠেছে, যেমন ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায় জড়িত হওয়া এমনকি খুন পর্যন্ত।
গ্যাং সংস্কৃতির একটি বড় দিক হলো “নায়কোচিত ভাব” বা বীরত্ব প্রদর্শন। গ্যাং সদস্যরা নিজেদের নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় এবং সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করতে চেষ্টা করে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে এবং গ্যাং–সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
গ্যাং সদস্যদের অপরাধমূলক ও বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ হলো ৬ জানুয়ারি ২০১৭ সালের ঘটনা। সে সময় “ডিসকো গ্যাং” নামের একটি দল তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দল “নাইন স্টার”-এর সদস্য আদনানকে হত্যা করে। প্রায় ৩০ জন ডিসকো গ্যাং সদস্য ছুরি, হাতুড়ি, আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে ছেলেটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
কেস স্টাডি: শিক্ষক উপ্পল কুমারের হত্যাকাণ্ড
২০২২ সালের ২৫ জুন, স্কুল প্রাঙ্গণে ঘটে যায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা।
দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু তার শিক্ষক উপ্পল কুমার সরকারকে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, জিতু একটি স্থানীয় কিশোর গ্যাং-এর নেতা ছিল। তার আরেক পরিচয় ছিল “জিতু দাদা”। এলাকায় সে তার বেপরোয়া আচরণ ও উদ্ধত স্বভাবের জন্য কুখ্যাত ছিল।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, জিতু স্কুলে প্রায়ই অসদাচরণ করত। শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে শিক্ষক উত্তপল কুমার তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং অভিভাবকদের সাথেও যোগাযোগ করতে চান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই শিক্ষকই জিতুর হাতে প্রাণ হারান।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৩৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছে ১২৭টি গ্যাং, যেখানে প্রায় ১,৩৮২ জন কিশোর জড়িত।
চট্টগ্রামে রয়েছে ৫৭টি গ্যাং, যেখানে প্রায় ৩১৬ জন কিশোর যুক্ত।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এসব গ্যাং মাদক পাচার, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
গ্যাং সংস্কৃতির মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে—
নায়কোচিত ভাব (Heroism) ও ক্ষমতার লালসা
রাজনৈতিক দলের আশ্রয়–প্রশ্রয়
এসব কারণে সংগঠিত অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
মূল কারণ বোঝা: বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাং-এ সম্পৃক্ততার কারণসমূহ
বাংলাদেশে বিভিন্ন কারণে তরুণরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বা কিশোর গ্যাং-এ যোগ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সমস্যা, পারিবারিক সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্য বা যে পরিবেশে তারা বেড়ে ওঠে তা। এই কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা ভালোভাবে বুঝতে পারি কেন কিছু কিশোর অপরাধের পথে হাঁটে। এখন আমি এসব কারণ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
অর্থনৈতিক কারণসমূহ (Economic factors)
অর্থনৈতিক কারণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটিকে বলা হয় ‘Economic determinism’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী অর্থনীতি সবকিছু নির্ধারণ করে, এমনকি একজন মানুষ অপরাধ করবে কিনা তাও।
“Economic determinism”-এর মধ্যে “infrastructure” ও “superstructure” ধারণাও রয়েছে। সুপারস্ট্রাকচারের মধ্যে পড়ে আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, নীতি এবং আচরণ। অর্থনৈতিক নির্ধারণবাদ অনুযায়ী আমাদের সুপারস্ট্রাকচার নির্ভর করে আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে তরুণরা অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে বা কিশোর গ্যাং-এ যোগ দিতে পারে। যখন তারা দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়, তখন তারা অপরাধকে টিকে থাকার বা নিজেদের অবস্থার উন্নতির একটি উপায় হিসেবে দেখতে পারে। গ্যাং-এ যোগ দেওয়া তাদের কাছে অর্থ উপার্জনের, নিরাপদ বোধ করার বা কোনো গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার একটি মাধ্যম বলে মনে হতে পারে। তাই অর্থনৈতিক সমস্যা কিশোরদের অপরাধে ঝোঁক ও কর্মকাণ্ডকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
কেস স্টাডি: Md. Lab Hossain, Md. Omar Faruk, Rukhsana Siddiqua কর্তৃক পরিচালিত “Factors of Juvenile Gang Culture in Bangladesh: An Investigative Study” নামক গবেষণায় কিশোরদের গ্যাং-এ সম্পৃক্ত হওয়ার সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই গবেষণায় দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং শিক্ষার অভাবকে কিশোর অপরাধ ও গ্যাং সম্পৃক্ততার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুঁজিবাদ (Capitalism): পুঁজিবাদের কারণে বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ এবং কিশোর গ্যাং-এ সম্পৃক্ততা দিন দিন বাড়ছে। মার্কসবাদী তত্ত্ব অনুযায়ী, সারা বিশ্বের সব অপরাধের মূল কারণ হলো সম্পদ ও মূলধনের অন্যায্য বণ্টন। ক্রিমিনোলজিস্ট Alviya Nomanza বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক দেশে গবেষণা করে দেখেছেন যে পুঁজিবাদ কিছু নির্দিষ্ট ফলাফল তৈরি করে, যেমন শিশু ও নারীদের শ্রমে নিয়োজিত করা—যা আরেকটি বড় কারণ। যখন একটি শিশু কাজ করে এবং অর্থ উপার্জন করে, তখন পরিপক্বতার অভাবে তারা প্রায়ই সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। ফলে তারা এই অর্থ অবৈধ কাজে ব্যয় করতে পারে বা নেশাজাতীয় দ্রব্য কিনতে পারে। আবার এই অর্থ অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমেও ব্যবহার হতে পারে।
সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব (Sociological Theory)
বাংলাদেশে সমাজতাত্ত্বিক কারণগুলো কিশোর অপরাধ এবং কিশোর গ্যাং-এ সম্পৃক্ততায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি অকার্যকর পারিবারিক পরিবেশ যেমন অভিভাবকের পর্যবেক্ষণের অভাব বা পারিবারিক দ্বন্দ্ব শিশুদের অপরাধমূলক আচরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে। একইভাবে, স্কুল যদি যথাযথ দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে শিশুরা অন্যত্র আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে প্রায়শই গ্যাং-এ যোগ দেয়।
সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্বের মধ্যে দুটি অংশ রয়েছে: একটি হলো লার্নিং থিওরি (Learning theory), আরেকটি হলো কন্ট্রোল থিওরি (Control theory)।
১. লার্নিং থিওরি (Learning theory): লার্নিং থিওরি অনুযায়ী, আমরা সব ধরনের আচরণ ও কার্যক্রম অপরাধমূলক কার্যক্রমসহ সমাজ থেকেই শিখি। বাংলাদেশে যদি কোনো শিশু অপরাধপ্রবণ বন্ধুবান্ধবদের সাথে বেড়ে ওঠে, যেমন কিশোর গ্যাং-এ যোগ দেয়, তবে সে তাদের অনুকরণ করতে পারে। গ্যাং তাকে অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি দিতে পারে এবং খারাপ কাজগুলো করতে শেখাতে পারে।
এই লার্নিং থিওরিকে পরবর্তীতে উইলিয়াম সাদারল্যান্ড (William Sutherland) আরও বিকশিত করেছেন। তিনি যে তত্ত্বটি প্রবর্তন করেন সেটি হলো Differential Association Theory। তার মতে, মানুষ অন্যদের পর্যবেক্ষণ করেই সবকিছু শেখে।
কেস স্টাডি: “Impact of Social Factors Responsible for Juvenile Delinquency” নামের একটি কেস স্টাডিতে R Abhishek, J Balamurugan বলেন যে, বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ সামাজিক কারণ দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সমস্যা, সহপাঠীর চাপ (peer pressure), দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থা, এবং অর্থনৈতিক সংগ্রাম। ভাঙা পরিবারের শিশুরা প্রায়শই সমর্থন ও পরিচয়ের জন্য গ্যাং-এ যোগ দেয়, অন্যদিকে অপরাধে জড়িত বন্ধুরা তাদের রোল মডেল হিসেবে কাজ করে। অপরাধপ্রবণ এলাকা এবং দুর্বল আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপরাধমূলক আচরণ স্বাভাবিক হয়ে যায়।
কন্ট্রোল থিওরি (Control theory):
যখন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যায়, তখন অপরাধ বেড়ে যায়। যেমন—যখন আইন, প্রতিষ্ঠান, পুলিশ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে যথাযথভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তখন অপরাধ বাড়তে থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়া (Social media):
সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের আচরণকে প্রভাবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কিশোর অপরাধ ও বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং-এ সম্পৃক্ততা। এটি তরুণদের নেতিবাচক রোল মডেলের সংস্পর্শে আনে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে মহিমান্বিত করে তোলে।
গ্যাং সংস্কৃতির মহিমান্বিতকরণ (Glorification of Gang Culture)
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ (Recruitment through Social Media)
অভিভাবকের পর্যবেক্ষণের অভাব (Lack of Parental Monitoring)
কেস স্টাডি: “Impact of Social Networking to Juvenile Delinquency” শীর্ষক গবেষণায় Rowena E. Mojares¹, Chris Joven R. Evangelista², Ronald A. Escalona³, Kerk Joseph Ilagan⁴ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া কিশোর অপরাধে বড় প্রভাব ফেলে। এটি তরুণদের অপরাধ, সহপাঠীর চাপ এবং গ্যাং সংস্কৃতির মুখোমুখি করে। অনেক কিশোর, মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে, গ্যাং-এ যোগ দেয় বা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক এবং ফলোয়ার পাওয়ার জন্য অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়। কেস স্টাডিগুলো দেখায় যে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার পর অনেক কিশোর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা আইনি জটিলতা ও সামাজিক বর্জনের দিকে নিয়ে যায়।
কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাং-এর প্রভাব (Impacts of Juvenile Delinquency and Kishore gang):
কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাং-এ সম্পৃক্ততা সমাজের বহু স্তরে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে। এর প্রভাব পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার উপর পড়ে। নিচে এসব প্রভাব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
সামাজিক প্রভাব (Social Impacts):
1. পারিবারিক কাঠামোর ভাঙন (Disruption of Family Structure):
যখন কোনো শিশু অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে, তখন সে পরিবারের নিয়ম ও দিকনির্দেশনা মেনে চলে না। এর ফলে পরিবারে মানসিক চাপ ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয় এবং সেই কারণে পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই সামাজিকভাবে কলঙ্কিত হয়, যা তাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।2. শিক্ষার বিঘ্ন (Disruption of education):
কিশোর অপরাধ শিক্ষা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বাড়ে, বিদ্যালয়ে সহিংসতা বৃদ্ধি পায় এবং একটি বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি হয় যা শিক্ষার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। অনেক তরুণ যারা গ্যাং বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা হয়তো শিক্ষা পরিত্যাগ করে বা তাদের অশৃঙ্খল আচরণের কারণে বহিষ্কৃত হয়।
3. অপরাধের হার বৃদ্ধি (Increased Crime Rates):
কিশোর অপরাধ এবং কিশোর গ্যাং অপরাধের হার বাড়িয়ে দেয় এবং জননিরাপত্তাকে দুর্বল করে। শহুরে এলাকায় কিশোর গ্যাং ছোটখাটো চুরি ও ভাঙচুর থেকে শুরু করে মাদক পাচার, চাঁদাবাজি এবং খুন পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকে। এসব গ্যাং প্রায়ই প্রভাব বিস্তারের জন্য সহিংসতা ব্যবহার করে এবং কনিষ্ঠ সদস্য সংগ্রহ করে, ফলে একটি পরিবেশ তৈরি হয় যেখানে অপরাধ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালে কিশোর গ্যাং অন্তত ২৬ জনকে হত্যা করেছে, ৩২৯ জনকে আহত করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৩৭৯টি মামলায় ৯৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
4. দেশের উন্নয়নে ধীরগতি (Slow Development of the Country):
Muntakim Saad, Mohammad Jarmil Khan, “Teen gang patrons still untouched”, The Daily Star
কিশোর অপরাধ দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা। যখন তরুণ প্রজন্ম সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তখন তারা দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে না। যদি কোনো দেশের তরুণ প্রজন্ম সঠিক জ্ঞান ও শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে জীবনে সফল হতে না পারে, তবে তারা দেশের জন্য ইতিবাচক কিছু দিতে পারবে না। এর ফলে শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
অর্থনৈতিক প্রভাব (Economic Impact):
1. পরিবারের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব (Economic Impact on Families):
কিশোর অপরাধীদের পরিবারগুলো প্রায়ই বড় ধরনের আর্থিক বোঝার সম্মুখীন হয়, কারণ অনেক কিশোর অপরাধী নিম্ন-আয়ের পরিবার থেকে আসে যারা আগে থেকেই অর্থনৈতিক কষ্টে ভুগছে। যখন কোনো শিশু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তখন পরিবারকে প্রায়ই আইনি খরচ, জামিন বা মুক্তির জন্য ঘুষ দিতে হয়, যা তাদের সীমিত আর্থিক সম্পদকে আরও সংকটে ফেলে।
2. শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতার হ্রাস (Reduction in Workforce Productivity):
অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা কিশোর অপরাধীরা কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। বাংলাদেশের অনেক নিয়োগকর্তা অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন কাউকে নিয়োগ দিতে অনিচ্ছুক। ফলে তারা স্থিতিশীল ও উৎপাদনশীল চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা হারায়।
3. স্থানীয় ব্যবসা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর প্রভাব (Impact on Local Businesses and Economic Development):
কিশোর গ্যাং প্রায়ই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে এবং ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। তারা প্রায়ই হুমকি দেয় যে টাকা না দিলে সহিংসতা করা হবে। এতে ব্যবসায় বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত হয়। গ্যাং-সংক্রান্ত সহিংসতার কারণে দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হয়।
4. বিচার ব্যবস্থার খরচ বৃদ্ধি (Increased Costs to the Justice System):
কিশোর অপরাধ ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক খরচ সৃষ্টি করে, যার মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিচারিক কার্যক্রম এবং সংশোধনাগার পরিচালনা। এটি শুধু রাষ্ট্রের আর্থিক বোঝা বাড়ায় না, বরং অপরাধীদের নিজেদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেও ব্যাহত করে।
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত আইনসমূহ
শিশু আইন, ২০১৩
ধারা ১৬: প্রতিটি জেলায় একটি কিশোর আদালত থাকবে।
ধারা ৩৩(১): কোনো শিশুকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না।
ধারা ৩৪(১):
যদি কোনো শিশু মৃত্যুদণ্ডযোগ্য বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে শিশু আদালত তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৩ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ দিতে পারবে।
যদি অপরাধ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য না হয়, তবে আদালত শিশুটিকে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার নির্দেশ দিতে পারবে।
ধারা ৫৯: কিশোর অপরাধীদের জন্য উন্নয়ন কেন্দ্র থাকবে।
উন্নয়ন কেন্দ্রসমূহ
১. টঙ্গী, গাজীপুরে ছেলেদের জন্য কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র।
২. কোনাবাড়ি, গাজীপুরে মেয়েদের জন্য কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র।
৩. যশোরে ছেলেদের জন্য কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র।
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ কমানোর কৌশল
কিশোর অপরাধ বাংলাদেশের জন্য একটি জটিল সামাজিক সমস্যা। এর সমাধানের জন্য প্রয়োজন মূল কারণ চিহ্নিত করা, বিদ্যমান আইনসমূহের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া।
কিশোর অপরাধের মূল কারণের সমাধান
১. দারিদ্র্য ও শিক্ষার অভাব মোকাবিলা
দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি ও মানসম্মত শিক্ষার সর্বজনীন সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও এনজিওগুলোর যৌথ উদ্যোগে বৃত্তি, মধ্যাহ্নভোজন এবং দরিদ্র শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা প্রয়োজন।
২. পারিবারিক ভাঙন প্রতিরোধ
ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর সহায়তায় স্কুলভিত্তিক কাউন্সেলিং ও কমিউনিটি সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলা দরকার। অভিভাবক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও পরামর্শদাতা কার্যক্রম সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ গঠনে সহায়ক হতে পারে।
৩. সহপাঠী চাপ ও গ্যাং প্রভাব মোকাবিলা
যুব কেন্দ্র, খেলাধুলা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করলে তরুণরা গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে, যা তাদের গ্যাংয়ে যোগ দেওয়া বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমাবে।
বিদ্যমান আইনের সমালোচনা
১. শিশু আইন, ২০১৩
অসঙ্গতিপূর্ণ বয়স নির্ধারণ এবং অধিকাংশ জেলায় কিশোর আদালতের অভাব।
সমাধান: আরও কিশোর আদালত প্রতিষ্ঠা করা এবং চার্জশিটে কিশোরদের আলাদা রাখা নিশ্চিত করা।
২. দণ্ডবিধি, ১৮৬০
কিশোর অপরাধীর বয়স ও পরিপক্বতা নির্ধারণে অস্পষ্টতা।
সমাধান: আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ফৌজদারি দায়িত্বের সর্বনিম্ন বয়স বৃদ্ধি।
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
যদিও বাংলাদেশে কিশোর বিচার কাঠামো শিশু অপরাধীদের অধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি, বাস্তবে প্রয়োগে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে:
বিশেষায়িত আদালতের অভাব: শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশু আদালত থাকা সত্ত্বেও সংখ্যা অপ্রতুল। ফলে প্রায়ই কিশোরদের সাধারণ আদালতে বিচার করা হয়, যা উপযুক্ত নয়।
ইচ্ছাকৃত গ্রেপ্তার: শিশুদের ক্ষুদ্র অপরাধেও গ্রেপ্তার করে প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে আটক রাখা হয়, যা তাদের ঝুঁকিতে ফেলে।
পুনর্বাসনের ঘাটতি: আইন শাস্তির দিকে বেশি জোর দেয়, পুনর্বাসনে নয়। এটি জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (UNCRC)-এর মানদণ্ডের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
মামলার উদাহরণ
১) জুলাই ২০২৪ – বাংলাদেশ কোটাপদ্ধতি সংস্কার আন্দোলন
১৭ বছর বয়সী হাসানাতুল ইসলাম ফাইয়াজকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। জন্মসনদে তার বয়স ১৭ হলেও কেস ফাইলে ভুলভাবে ১৯ লেখা হয়। ফলে তাকে কিশোর আদালতের বদলে সাধারণ আদালতে বিচার করা হয়, যা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (UNCRC) লঙ্ঘন করে। পরবর্তীতে আপিলে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রিমান্ড আদেশ বাতিল করে।
এই মামলা প্রমাণ করে যে বয়স নির্ধারণ ও রেকর্ডের ভুল কিশোর বিচার প্রক্রিয়ার সঠিক প্রয়োগে বড় বাধা।
বাংলাদেশের কিশোর বিচার ব্যবস্থা মূলত শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসনে জোর দেয়। তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই পুনর্বাসনের অভাব স্পষ্ট। একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো শুকুর আলীর মামলা, যেখানে সঠিক পুনর্বাসনের অভাবে ব্যর্থতা চোখে পড়ে।
২) BLAST এবং অন্যরা বনাম বাংলাদেশ এবং অন্যান্য [‘শুকুর আলী’ মামলা]
ঘটনাবলী:
শুকুর আলী, তখন বয়স ১৪ বছর, এক ৭ বছরের কন্যাশিশুকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬(২) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হন। আইন অনুযায়ী তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, কারণ সেই সময়ে এই অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক ছিল।
মামলা চলাকালীন, ফেব্রুয়ারি ২০০০ সালে ধারা ৬(২)-এর অপরাধের জন্য বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তিত হয়ে আজীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড-এর বিধান করা হয়। ১৯৯৫ সালের আইনটি বাতিল করে তার পরিবর্তে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনটি ১৯৯৫ সালের আইনের থেকে ভিন্ন ছিল, কারণ এটি শিশু আইন, ১৯৭৪-এর উপরে প্রাধান্য পায়নি।
শুকুর আলীর বয়স অপরাধের সময় ছিল ১৪ বছর এবং বিচার চলার সময় ১৬ বছর। তিনি রায় ও সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেন, কিন্তু উচ্চ আদালত এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ উভয়ই রায় বহাল রাখে।
আইনি সংস্কারের জন্য সুপারিশসমূহ
১. শিশু আইনে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
২. দেশে আলাদা কিশোর আদালত এবং আটকাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. জাতিসংঘের নির্দেশিকা অনুসারে ন্যূনতম ফৌজদারি দায়িত্বের বয়স আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে, যাতে অস্পষ্টতা দূর হয়।
আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিসের ভিত্তিতে সুপারিশ
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ কার্যকরভাবে কমানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সফল প্র্যাকটিসগুলো পর্যালোচনা করা জরুরি, এবং দেশের আইনি কাঠামোর মধ্যে সেগুলোর প্রয়োগযোগ্যতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিচে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
১. ডাইভারশন প্রোগ্রাম (Diversion Programs) বাস্তবায়ন
ডাইভারশন প্রোগ্রাম কিশোর অপরাধীদের আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে পুনর্বাসনমূলক বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠায়।
জর্জিয়ার Juvenile Justice Incentive Grant (JJIG):
২০১৩ সালে শুরু হওয়া JJIG কিশোর অপরাধীদের জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রমাণ-ভিত্তিক প্রোগ্রাম চালু করে। আটককেন্দ্রের পরিবর্তে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে জোর দেওয়ায়, ২০১৯ সালের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আটকাদেশ ৬২% হ্রাস পায়। এটি প্রমাণ করে যে ডাইভারশন পুনরায় অপরাধ সংঘটন কমাতে কার্যকর।
২. কমিউনিটি-ভিত্তিক পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা
এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সম্পদ ও সহায়তা ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কিশোর অপরাধীদের সমাজে পুনঃএকীভূত করা হয়। এতে শাস্তির পরিবর্তে পুনর্বাসনের উপর জোর দেওয়া হয়।
জাপানের Volunteer Probation Officer System:
জাপানে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবহার করা হয়, যারা পেশাদার প্রবেশন অফিসারদের সঙ্গে কাজ করে কিশোর অপরাধীদের পুনর্বাসনে সহায়তা করে। তাদের নির্দেশনা ও সহায়তায় অপরাধীরা সহজে সমাজে ফিরে যেতে পারে। এর ফলে জাপান বিশ্বের অন্যতম কম কিশোর অপরাধ প্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত।
৩. পুনর্গঠনমূলক বিচার পদ্ধতি (Restorative Justice) গ্রহণ
এতে অপরাধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণে ভুক্তভোগী, অপরাধী ও সমাজকে একত্রিত করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
নিউজিল্যান্ডের Family Group Conferences (FGCs):
নিউজিল্যান্ডে FGC হলো কিশোর বিচার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এখানে অপরাধী, ভুক্তভোগী এবং পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হয়ে অপরাধ নিয়ে আলোচনা করে এবং ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে যুব আদালতের মামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং ভুক্তভোগীদের সন্তুষ্টির হারও অনেক বেড়েছে।
রেফারেন্স :
Muntakim Saad, Mohammad Jamil Khan, ‘Teen gang patrons still untouched’ The Daily Star
https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/crime-justice/news/teen-gang-patrons-still-untouched-3573556
Md. Manjur Hossain Patoari, ‘Socio-Economic, Cultural and Family Factors Causing Juvenile Delinquency and Its Consequences in Bangladesh: A Look for Way Out’ (2020) 72 Asian Journal of Social Sciences and Management Studies 95 https://www.researchgate.net/publication/341826987_Socio-Economic_Cultural_and_Family_Factors_Causing_Juvenile_Delinquency_and_Its_Consequences_in_Bangladesh_A_Look_for_Way_Out
লেখকঃ সৌমিক আহমেদ
আইন বিভাগ
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়