A Top Ads

নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজঃ নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান আঙ্গুরের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, ১৯৯১ সালে আতাউর রহমান আঙ্গুর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে টানা ষোল বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে তিনি আর নির্বাচিত হতে পারেন নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বিএনপির মনোনয় পান। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই একাধিক বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন।

সম্প্রতি সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুরের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোম মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভিডিওতে আতাউর রহমান আঙ্গুরকে বলতে শোনা যায়, আজ পর্যন্ত আমার নামে কোন মামলা হয় নি। কারণ আড়াইহাজারের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান সকলেই আমার। আমি রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। আমার রাজনীতি করার কোন আগ্রহ নেই। শেখ হাসিনা দশ বছর পর মারা গেলে তার পরিবর্তে দলের নেতৃত্বে অন্যকেউ আসবে। কিন্তু বিএনপি কবে আসবে সেটা আমি জানি না। আল্লাহ মাবুদ ভালো জানে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ও বিপক্ষে কিছুই বলছি না। তবে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তার কাছে আমার মোবাইল ফোন নাম্বার রয়েছে এবং তার নাম্বারও আমার কাছে রয়েছে। শেখ হাসিনা যখন আড়াইহাজারের গোপালদীতে এসেছিলেন তখন তিনি ইউএনও ও তার নেতাকর্মীদের দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বলেও ভয়েজরেকর্ডটিতে শোনা যায়। চার মিনিট পঁচান্ন সেকেন্ডের ভয়েজ রেকর্ডটিতে তিনি বলেন শেখ পরিবারের সাথেও তার সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়াও তাকে ব্যক্তিগত ভাবেই শেখ হাসিনা চিনেন ও জানেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহবায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করে একজন সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুরের মুুখে যে ধরনের ফোনালাপ শোনা গেছে এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আওয়ামীলীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে তাকে কখনো আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে দেখা যায় নি। কোন বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশেও ছিলেন না কখনো তিনি। এসকল মিরজাফরদের কারণেই বিএনপির ঘুরে দাড়াতে ষোল বছর লেগেছে। অবিলম্বে আতাউর রহমান আঙ্গুরকে দল থেকে বহিস্কার করার দাবি জানান তিনি।

আড়াইহাজার থানা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক ও ফতেহপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সাদেক মিয়া জানান, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গর বিএনপির সংসদ সদস্য হয়েও ফ্যাসিবাদ সরকার প্রধান আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলীয় লোকদের সাথে সখ্যতা রাখায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয় নি। সামনে নির্বাচনকে ঘীরে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। অথচ তিনি নিজেই তার ফোন আলাপে বলেছেন তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় নয় এবং কোন দিন রাজনীতি করবেন না। সে কিভাবে দলের মনোনয়ন চায় এটা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফোন আলাপ ফাঁসের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়নগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান আঙ্গুর কালের কন্ঠকে জানান, কখন কবে কার সাথে আমি ফোন আলাপে এ কথা বলেছি আমি কিছুই মনে করতে পারছিনা। তবে এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। স্যাটেলাইটের যুগে সবকিছুই নকল করা সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কালের কন্ঠকে জানান, আতাউর রহমান আঙ্গুর সাহেব সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন, ফোনালাপের বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ডকে জানানো হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন তারাই।

 

আগের সংবাদ দেখুনআওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
পরের সংবাদ দেখুনআওয়ামীলীগের কর্মী বিএনপির নেতা হতে চায়