A Top Ads

নারায়ণগঞ্জ ক্রাইম নিউজ: ফতুল্লার আরও এক মামলায় যুবলীগ ক্যাডার রিপন ওরফে সেমাই রিপনকে রিমান্ডে নেয়া হবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে এই সেমাই রিপন ছিলেন শহীদনগর ও আশপাশের এলাকার ত্রাস। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় কতিপয় নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে বিগত সময়ে তিনি ধরাকে সরা জ্ঞ্যান করে চলতেন। বিশেষ করে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিজ অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করিয়ে হেনস্থা করতেন বলেও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও এলাকায় মামলাবাজ হিসেবেও পরিচিতি ছিলো তার। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েও হয়রানী করে বেড়ানো তার নেশায় পরিণত হয়েছিল। এমনকি নিজ শশুরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে শশুরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলাও দিয়েছিলেন তিনি।

অথচ, রিপন নিজেই একাধিক বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজী, প্রতারণা এবং ভূমিদস্যুতাসহ প্রতারণার অভিযোগে বহু মামলার আসামী।

বিশেষ করে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় সেমাই রিপনকে গ্রেফতার করার পর তাকে পূর্ববর্তী মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। নেয়া হচ্ছে রিমান্ডেও।

ইতিমধ্যেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলাসহ সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের উপর হামলা ও তান্ডব চালানোর ঘটনায় এই যুবলীগ ক্যাডার ফারুক হোসেন রিপন ওরফে সেমাই রিপনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এবার ফতুল্লার আরও এক মামলায় তাকে রিমান্ডে নেয়া হবে বলে জানা গেছে। এর আগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার উপর সন্ত্রাসী হামলা ও গুলিবর্ষনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গত ১২ নভেম্বর যুবলীগ ক্যাডার সেমাই রিপনকে শহরের মন্ডলপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল সদর থানা পুলিশ।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে স্ত্রীসহ অবকাশ যাপনকালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছত্রলীগের ক্যাডাররা মাওলানা মামুনুল হককে হেনস্থা করে। হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের উপর আওয়ামী ক্যাডাররা হামলা চালায়। এ হামলায় প্রাণ হারান হেফাজত কর্মী মাওলানা ইকবাল হোসেন। এঘটনায় গত ২১ অক্টোবর সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার এজাহারনামীয় ১৮নং আসামী যুবলীগ ক্যাডার রিপন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফারুক হোসেন রিপন সৈয়দপুর এলাকার চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের পুত্র। তিনি নিজেকে কখনো সাংবাদিক, কখনো মেয়র আইভীর লোক আবার কখনো অয়ন ওসমানের অস্ত্রধারী ক্যাডার কাউসারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে শহীদনগর, সুকুমপট্টি ও সৈয়দপুর এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।

স্থানীয় একটি সুত্রে জানা গেছে, রিপন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পাশাপাশি এলাকায় মামলাবাজ হিসেবেও পরিচিত। তার শ্বশুরের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করে হয়রানী করেছিল রিপন।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সৈয়দপুরে রিপন গড়ে তুলেছে অবৈধ সেমাই কারখানা, সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম এই যুবলীগ ক্যাডারের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারী কেলেংকারীতে রিপনের বাবা জুতাপেটার শিকার হয়েছিল। এমন অভিযোগ রয়েছে রিপনের বিরুদ্ধেও। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৬ বছর চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা সহ বিচার শালিসীর নামে অর্থ হাতিয়ে নিলেও অনেকে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করেনি। তবে রিপন গ্রেফতারের পর এবার ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্যদিয়ে নারায়ণগঞ্জে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের ইতি ঘটার পাশাপাশি ধুলোয় মিশেছে প্রবল প্রভাব—প্রতিপত্তি কায়েম করা হাজী সাহেব খ্যাত আজমেরী ওসমানের রাজত্ব। তবে ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে নারায়ণগঞ্জে নিজেকে নয়া হাজী সাহেব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছিল সেমাই রিপন। শহীদনগর সুকুমপট্টি এলাকায় ‘নব্য হাজী সাহেব’ তকমা পাওয়া এই সেমাই রিপন আজমেরী ওসমানের আদলে গড়ে তুলেছিল নিজস্ব টর্চার সেল। তার সেমাই কারখানার ভিতরে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে বসে একদিকে যেমন নানা মুশকিলের আহসান দেন, ঠিক সেখান থেকেই নানা ষড়যন্ত্রের জালও বুনে থাকেন ওই ব্যক্তি।

অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন বিরোধপূর্ন জায়গা—জমি কব্জা করাসহ সৈয়দপুর, শহীদনগর ও সুকুমপট্টি এলাকার নিয়ন্ত্রন নিতে উশৃঙ্খল কিছু কিশোর ও যুবকদের নিয়ে ইতিমধ্যেই রিপনের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে অস্ত্রধারী ও লাঠিয়াল বাহিনী। মানুষের জমি—জমায় নিজের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠায় ওই বাহিনী রিপনের ইশারায় ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

আগের সংবাদ দেখুনদেশ সংস্কারে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে হবেঃ গিয়াস উদ্দিন
পরের সংবাদ দেখুনডেমরায় বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলায় আহত ১০